ইতিহাসে ফিরে যান
🕋 মুঘল সাম্রাজ্য ও দক্ষিণ এশিয়া1206-1857 CE

পলাশীর যুদ্ধ — বাংলায় ব্রিটিশ আধিপত্য

Battle of Plassey

1757 CE

সংক্ষিপ্ত বিবরণ

মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ব্রিটিশদের কাছে পরাজিত হন। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায় ব্রিটিশ শাসনের শুরু।

গুরুত্ব ও তাৎপর্য

ভারত উপমহাদেশে ঔপনিবেশিক শাসনের সূচনাবিন্দু।

📖 বিস্তারিত ইতিহাস

২৩ জুন, ১৭৫৭। পলাশীর আমবাগানে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ভারতীয় উপমহাদেশে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের সূচনা হয়। এটি কোনো সাধারণ যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল বিশ্বাসঘতকতার এক ঘৃণ্য ইতিহাস।

নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যুর পর তাঁর তরুণ নাতি সিরাজউদ্দৌলা বাংলার সিংহাসনে বসেন। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখন কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ করছিল এবং নবাবের নির্দেশ অমান্য করছিল। সিরাজ কলকাতা আক্রমণ করে ব্রিটিশদের বিতাড়িত করেন। কিন্তু লর্ড ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে সৈন্য নিয়ে এসে আবার কলকাতা দখল করে এবং নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

ষড়যন্ত্রে যোগ দেয় নবাবের প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খান, খালা ঘষেটি বেগম, এবং জগৎশেঠ ও রায়দুর্লভের মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। তারা ক্ষমতার লোভে দেশের স্বাধীনতা বিদেশিদের হাতে তুলে দিতে রাজি হয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর প্রান্তরে যুদ্ধ শুরু হয়। নবাবের পক্ষে ছিল ৫০,০০০ সৈন্য, আর ক্লাইভের পক্ষে মাত্র ৩,০০০।

যুদ্ধ শুরু হলে নবাবের অনুগত সেনাপতি মীর মদন ও মোহন লাল বীরত্বের সাথে লড়াই করেন। মীর মদন শহীদ হন। বৃষ্টিতে নবাবের বারুদ ভিজে যায়। এই সুযোগে ক্লাইভ আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। সিরাজ মীর জাফরকে আক্রমণ করার নির্দেশ দেন, কিন্তু মীর জাফর পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে — তার হাজার হাজার সৈন্য নিয়ে সে যুদ্ধক্ষেত্রেই নিষ্ক্রিয় থাকে। সিরাজউদ্দৌলা বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন।

পরাজিত নবাব মুর্শিদাবাদে পালিয়ে যান এবং পরে ধরা পড়েন। মীর জাফরের ছেলে মিরনের নির্দেশে মোহাম্মদী বেগ তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই যুদ্ধের ফলে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায় এবং ধীরে ধীরে পুরো ভারত ব্রিটিশদের অধীনে চলে যায়। পলাশীর পর বাংলায় যে লুণ্ঠন ও দুর্ভিক্ষ (ছিয়াত্তরের মন্বন্তর) হয়, তাতে বাংলার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ মারা যায়। মীর জাফর ইতিহাসে 'বিশ্বাসঘাতক' (Traitor) হিসেবে ঘৃণিত হয়ে আছে।

প্রধান ব্যক্তিবর্গ

নবাব সিরাজউদ্দৌলা

Nawab Siraj-ud-Daulah

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব, ব্রিটিশ বিরোধী বীর

মীর জাফর

Mir Jafar

বিশ্বাসঘাতক সেনাপতি, যার কারণে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য ডুবে যায়

লর্ড ক্লাইভ

Robert Clive

ব্রিটিশ সেনাপতি ও ষড়যন্ত্রের মূল হোতা

📅 গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

২৩ জুন ১৭৫৭

পলাশীর যুদ্ধ

২ জুলাই ১৭৫৭

নবাব সিরাজউদ্দৌলার শাহাদাত

💡 শিক্ষা ও উপদেশ

  • ঘরের শত্রু বা 'মীর জাফর'রা বাইরের শত্রুর চেয়েও বেশি বিপজ্জনক।
  • ঐক্যের অভাব এবং বিশ্বাসঘাতকতা একটি স্বাধীন জাতিকে গোলামে পরিণত করতে পারে।
  • স্বাধীনতা রক্ষা করা স্বাধীনতা অর্জনের চেয়েও কঠিন।

📜 কুরআনের রেফারেন্স

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনেশুনে নিজেদের আমানতের খিয়ানত করো না।

সূরা আনফাল ৮:২৭