বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা
Founding of Baghdad
সংক্ষিপ্ত বিবরণ
খলিফা মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। গোলাকার নকশায় নির্মিত এই শহর বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ শহরে পরিণত হয়। জনসংখ্যা ১০ লাখের বেশি।
গুরুত্ব ও তাৎপর্য
বিশ্বের জ্ঞান ও বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু।
📖 বিস্তারিত ইতিহাস
৭৬২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর টাইগ্রিস (দজলা) নদীর তীরে এক নতুন রাজধানী নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। এটি ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ—পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগস্থল এবং পারস্যের কাছে। জ্যোতির্বিদদের পরামর্শে তিনি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং শহরের নাম দেন 'মাদিনাতুস সালাম' বা শান্তির নগরী। কিন্তু লোকমুখে এটি পুরানো ফারসি গ্রামের নামানুসারে 'বাগদাদ' (ঈশ্বরের দান) নামেই পরিচিতি পায়।
বাগদাদকে তৈরি করা হয়েছিল এক নিখুঁত বৃত্তাকার শহর (Round City) হিসেবে। এর চারটি প্রধান তোরণ ছিল—কুফা, বসরা, খোরাসান ও দামেস্ক তোরণ। শহরের কেন্দ্রে ছিল খলিফার প্রাসাদ (গোল্ডেন গেট প্যালেস) এবং গ্র্যান্ড মসজিদ।
অল্প সময়ের মধ্যেই বাগদাদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং সমৃদ্ধ শহরে পরিণত হয়। এর জনসংখ্যা ১০ লাখে উন্নীত হয়, যা তৎকালীন প্যারিস বা লন্ডনের চেয়ে বহুগুণ বেশি ছিল। এটি কেবল রাজনৈতিক রাজধানী ছিল না, বরং এটি হয়ে ওঠে জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ও বাণিজ্যের বিশ্বকেন্দ্র।
চিন থেকে রেশম, ভারত থেকে মসলা, আফ্রিকা থেকে সোনা এবং রাশিয়া থেকে পশম—সব এসে জড়ো হতো বাগদাদের বাজারে। 'আরব্য রজনী'র (Alif Laila) গল্পগুলো মূলত হারুন-অর-রশীদের শাসনামলের এই জৌলুসপূর্ণ বাগদাদকে কেন্দ্র করেই রচিত।
বাগদাদের সমৃদ্ধি এতটাই ছিল যে, এখানে ৩০টিরও বেশি কলেজ, অসংখ্য হাসপাতাল, গ্রন্থাগার এবং মানমন্দির ছিল। টেমস নদীর তীরের লন্ডন যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, দজলার তীরের বাগদাদ তখন হাজারো বাতির আলোয় ঝলমল করত।
প্রধান ব্যক্তিবর্গ
আল-মনসুর
Al-Mansur
আব্বাসীয় খলিফা ও বাগদাদের প্রতিষ্ঠাতা
হারুন-অর-রশীদ
Harun al-Rashid
যার আমলে বাগদাদ সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছায়
📅 গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
বাগদাদ নগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
💡 শিক্ষা ও উপদেশ
- পরিকল্পিত নগরায়ন — বাগদাদের নির্মাণশৈলী আধুনিক নগর পরিকল্পনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
- জ্ঞানের কেন্দ্র — শহরটি কেবল ইট-পাথরের ছিল না, এটি ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার কেন্দ্র।